বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

বাংলাদেশের ক্রিকেট পেলো নতুন জীবন!

খেলাধুলা ডেস্ক:

‘মৃত্যুর’ দুয়ার থেকে ফিরলো বাংলাদেশের ক্রিকেট। ওমানের বিপক্ষে হারলেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হতো মাহমুদউল্লাহর দলকে। এই বিদায়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ‘এপিটাফ’ লেখা হয়ে যেত। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা শেষ পর্যন্ত সেটি হতে দেননি। মূল পর্বে খেলার সম্ভবনা বাঁচিয়ে রেখেছেন ওমানেকে হারিয়ে। এ দিন পুরো দলকে কঠোর পরিশ্রম করে ম্যাচটি জিততে হয়েছে। ২৬ রানের এই জয় কেবল জয়ই নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেট পেলো নতুন জীবন!

১৮৮২ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ‘অ্যাশেজ’ হেরেছিল ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ড। এরপর ইংলিশ সংবাদপত্র ইংল্যান্ডের ক্রিকেটের মৃত্যুর ঘোষণা দিয়ে তাদের কাগজে ‘এপিটাফ’ ছেপেছিল। সেবার ইংল্যান্ডে গিয়ে ইংলিশদের ‘খুন’ করেছিল অস্ট্রেলিয়া। এবার আইসিসির সহযোগী সদস্য ওমানের হাতে ওমানের মাটিতে ‘খুন’ হতে যাচ্ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট! কিন্তু দলীয় পারফরম্যান্সে এবারকার মতো বেঁচে গেলো বাংলাদেশের ক্রিকেট।

বিশ্বকাপের মূল পর্ব শুরু হচ্ছে ২৩ অক্টোবর। তার আগে ওমান থেকে চারটি দলকে আরব আমিরাত যাওয়ার টিকিট কাটতে হতো। গ্রুপ ‘এ’-তে থাকা শ্রীলঙ্কা প্রত্যাশিতভাবেই ম্যাচ জিতছে। কিন্তু গ্রুপ ‘বি’-তে থাকা বাংলাদেশ শুরুতেই স্কটিশদের কাছে হোঁচট খায়। ছন্নছাড়া ব্যাটিংয়ে আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশের সঙ্গে হেরে মূল পর্বে যাওয়ার সমীকরণটাই কঠিন করে ফেলে। সুপার-১২ এ খেলতে হলে ওমান ও পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে জয়ের বিকল্প ছিল না বাংলাদেশের সামনে।

এমন সমীকরণ নিয়েই মঙ্গলবার রাতে মরুর বুকে অবস্থিত ওমানের আল আমিরাত ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফুল ফোটাতে হতো। অনেক ভয়, শঙ্কা আর উৎকণ্ঠার মধ্যে থেকে মরুর বুকে বাংলাদেশ ফুল ফোটাতে পেরেছে। ওমান সহযোগী সদস্য দেশ হয়েও বাংলাদেশেন স্নায়ুর পরীক্ষা বেশ ভালো করেই নিয়েছে। প্রতিটি সেকেন্ড, প্রতিটি মিনিট ক্রিকেটার থেকে শুরু করে ক্রিকেটপ্রেমীদের উৎকণ্ঠার মধ্যে কেটেছে।

স্বস্তির জয় পেলেও স্কটিশদের বিপক্ষে করা ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রথম পাওয়ার প্লেতে স্ট্রাইক রোটেট করতে পারেনি লিটন-নাঈম। প্রথম ৬ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৯। এখানেই মূলত পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ১১ ওভারের পর টানা তিন ওভারে নাঈম শেখ ও সাকিব আল হাসান রানের গতি বাড়ালেও স্কোরবোর্ড বড় করতে সেটি যথেস্ট ছিল না। তারপরও মনে হচ্ছিল ১৭০ প্লাস রান উঠে যাবে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৪ রানের ইনিংস খেলা নাঈমের ব্যাটিং নিয়েও প্রশ্ন আছে। শুরুতে দলকে চাপে ফেলতে তারও দায় আছে। এরপর শেষ তিন ওভারে বাংলাদেশের ব্যাটাররা ১৬ রান তুলতে হারান চার উইকেট। ফলে ১৫৩ রানের পুঁজি নিয়েই লড়াই করতে হয় ওমানের বিপক্ষে।

কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে ১৫৪ রান সহজ লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে খেলতে নেমে দারুন শুরু পায় ওমান। মাহমুদউল্লাহরা যেটি পারেননি সেটিই করে দেখিয়েছেন ওমানের ব্যাটাররা। প্রথম পাওয়ার প্লে ব্যবহার করে এক উইকেট হারিয়ে ওমান ৪৭ রান তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ১৩তম ওভারের শেষ বলে জাতিন্দারকে ফেরানোর পর ম্যাচে বাংলাদেশের কিছুটা নিয়ন্ত্রণ চলে আসে। কিন্তু ভয় ছিল তাসকিন তার কোটা পূরণ করতে পারবেন কিনা। প্রথম তিন ওভারে ভালো বল করতে পারেননি এই পেসার। তবে নিজের শেষ ওভারে স্লোয়ার মেরে মাত্র চার রান খরচ করেন তিনি। বাকি কাজটুকু দারুনভাবে শেষ করেন মোস্তাফিজ ও সাইফউদ্দিন। এ দিন মোস্তাফিজ বেশ খরুচে বোলিং করলেও ওমানের ব্যাটিংলাইনআপ ভেঙে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তারই।

ব্যাটে-বলে অলরাউন্ডস পারফরম্যান্স করে ম্যাচ সেরার পুরষ্কার জিতেছেন সাকিব। যদিও এখানে সবচেয়ে বড় অবদান মেহেদী এবং সাইফউদ্দিনের। অফ স্পিনার মেহেদী নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ৪ ওভারে ১৪ রান খরচ করে একটি উইকেট নিয়েছেন। অন্যদিকে সাইফউদ্দিন ১৬ রান খরচায় নিয়েছেন একটি উইকেট। শুরুতে মাহমুদউল্লাহ-মোস্তাফিজের হাত ফসকে দুটি ক্যাচ মিস হলেও পুরো সময়টাতে জীবন দিয়ে লড়াই করে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরিয়ে এনেছেন ক্রিকেটাররা।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION